যুক্তরাজ্যে জুলাইয়ে নির্মাণ খাতের কার্যক্রম কমেছে

যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতে কার্যক্রম জুলাইয়ে অনেকটাই কমে গেছে।

যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতে কার্যক্রম জুলাইয়ে অনেকটাই কমে গেছে। কভিড-১৯ মহামারীর শুরুর সময়ের পর এটিই সবচেয়ে বড় পতন বলে জানিয়েছে বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। বিশেষ করে আবাসন নির্মাণের কাজ অনেক কমেছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট বা সেতুর মতো অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্যিক ভবনের কাজও কমায় সামগ্রিকভাবে নির্মাণ খাতের কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের মাসিক জরিপ অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) নেমে এসেছে ৪৪ দশমিক ৩-এ, যা জুনে ছিল ৪৮ দশমিক ৮। পিএমআই সূচক ৫০-এর নিচে নামার অর্থ দাঁড়ায় সংকোচন। এদিকে আবাসন নির্মাণ খাতের পিএমআইও আগের ৫০ দশমিক ৭ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৩-এ।

নির্মাণ খাতের দুরবস্থা ব্রিটিশ সরকারের ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণ হওয়ার প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রত্যাশা পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সরকার সম্ভাব্য বাড়ি নির্মাণের সংখ্যা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপ বলছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দরপত্র আহ্বানের যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে না। আবার অনেক গ্রাহকই নতুন প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইছেন না। এতে করে খাতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রমঘাটতি, স্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগকারীদের জাতীয় বীমা অবদানে (এনআইসি) কর ব্যয় বাড়ার ফলে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে বিনিয়োগের উৎসাহ কমে যাচ্ছে।

তবে কিছুটা আশার কথা হচ্ছে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আগস্টে সুদহার কমাতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে ঋণ নেয়ার খরচ কমে গিয়ে নির্মাণ খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

সরকার ঘর নির্মাণে গতি আনতে পরিকল্পনা, সংস্কার, নতুন টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব ও সামাজিক আবাসনে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯০০ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কেবল বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

আরও